জেলার সংবাদ

বাংলাদেশের রাস্তা মেরামতের ট্রাক আটকে দিল বিএসএফ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভারতের উজান থেকে ধেয়ে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানির তোড়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার একমাত্র যোগাযোগের মূল পাকা সড়কটি ধসে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নিলেও তাতে নতুন করে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

জরুরি মেরামতের মালামালবাহী ট্রাক তিন বিঘা করিডোরে বিএসএফ আটকে দেওয়ায় মেরামতের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ট্রাকটি বিজিবি চেকপোস্টের সামনে পড়ে রয়েছে। এতে করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোগী ও সীমান্ত টহলে থাকা বিজিবি সদস্যসহ পুরো এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরম রূপ নিয়েছে।

 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে হঠাৎ করে তীব্র বেগে বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢল বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পানির প্রচণ্ড তোড় প্রথমে কৃষকের আবাদি জমি প্লাবিত করে সজোরে আছড়ে পড়ে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলের সিস্টায়ার বাজার এলাকার পাকা সড়কটিতে। মুহূর্তের মধ্যেই পানির তোড়ে সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে বিশাল খাদের সৃষ্টি হয়।


এর ফলে সিস্টায়ার বাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্তত ২ হাজার পরিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একই সাথে সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের স্বাভাবিক যাতায়াত এবং সীমান্ত টহল ব্যবস্থা গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পানির তোড়ে বিস্তীর্ণ এলাকার সদ্য রোপিত আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গিয়ে কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পেয়ে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সেই প্রচেষ্টায় প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় তিন বিঘা করিডোরে বিএসএফের অবস্থান।


সড়ক ধসে যাওয়া এবং মেরামত কাজ আটকে থাকায় দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা এলাকার সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে মূল ভূখণ্ডে যেতে চাওয়া রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।


পাশাপাশি স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শত শত শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তা না থাকায় অনেকে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পার হওয়ার চেষ্টা করলেও তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।


ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, ভারতীয় ঢলের পানিতে তাদের জমি ও রাস্তা ধসে গেল, আবার সেই রাস্তা মেরামতের মালামাল আনতেও বিএসএফ বাধা দিচ্ছে-এ যেন এক দ্বিমুখী সংকট।


পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং বিজিবির টহল ব্যবস্থা সচল রাখতে বিজিবি ও বিএসএফের উচ্চপর্যায়ে ফ্ল্যাগ বৈঠক বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান বের করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে তিন বিঘা করিডোর দিয়ে মেরামতের মালামাল প্রবেশের ব্যবস্থা করে সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্তবাসী।


এ নিয়ে ঘটনা সম্পর্কে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ওসমান গনি জানান, সড়কটি ধসে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত সাময়িক চলাচলের উপযোগী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী বালুসহ জরুরি কিছু মেরামত সামগ্রী নিয়ে একটি ট্রাক দহগ্রামের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ট্রাকটি তিন বিঘা করিডোরে পৌঁছালে বিএসএফ সদস্যরা সেটি আটকে দেয় এবং দহগ্রামে প্রবেশে বাধা দেয়। বিএসএফের বাধার মুখে বাধ্য হয়ে ট্রাকটি আটকে থাকে এবং মালামাল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

 

ডিবিসি/ এসভিএন

আরও পড়ুন