আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পকে বিরত থাকতে বলুন, নইলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব: ইরানের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪৩ মিনিট আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে।

আলোচনা-সংশ্লিষ্ট একাধিক ইরানি কর্মকর্তা, উপসাগরীয় সূত্র এবং একজন জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিকের বরাতে জানা গেছে, ২৮ জুলাই ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে তেহরান। সেই বার্তায় স্পষ্ট করে জানানো হয়, ইরানের ওপর হামলা হলে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ আরব মিত্রদের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, বিদ্যুৎ গ্রিড, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

 

সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্রাম্পকে নতুন করে হামলা থেকে বিরত রাখতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বার্তা ছিল, ইরান পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত থাকলেও আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

 

একটি উপসাগরীয় সূত্র জানায়, ইরানের সতর্কবার্তা ছিল স্পষ্ট যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে।

 

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পরবর্তীতে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে সামরিক পদক্ষেপ বিলম্বিত করা, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কাতার, ওমান ও সৌদি আরবও ওয়াশিংটনকে তেহরানের সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করে নতুন সংঘাত এড়ানোর পরামর্শ দেয়।

 

২ আগস্ট ট্রাম্প বলেন, দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলে তিনি ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা বাতিল করতে প্রস্তুত।

 

এদিকে উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব মনে করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা গোটা অঞ্চলে আরও বড় ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনতে পারে। তবে নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা হলে সামরিক জবাব দেওয়ার বিষয়েও রিয়াদ স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে।

 

ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে তা পুরো অঞ্চলকে সংঘাতের আগুনে ঠেলে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তাদের দাবি, ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা হলে তার জবাবে আরও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে প্রতিপক্ষকে।

 

আঞ্চলিক কূটনীতিকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমঝোতার বড় বাধা হলো ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তি চায়, যা তারা নিজেদের জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারে; অন্যদিকে তেহরানও আলোচনায় নিজেদের অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে চায়।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন