জেলার সংবাদ

জামালপুরে মৃত্যুর আগেই নিজের চল্লিশা সম্পন্ন করলেন কৃষক আব্দুস সামাদ

জামালপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মানুষ মারা যাওয়ার পর তার আত্মার শান্তির জন্য স্বজনরা চল্লিশার (চল্লিশ দিন পর বিশেষ দোয়া ও ভোজ) আয়োজন করেন। কিন্তু মৃত্যুর পর সন্তানরা এই চল্লিশার আয়োজন করবে কি না, মনে ছিল এমন শঙ্কা। আর সেই সন্দেহ দূর করতে জীবিত অবস্থাতেই নিজের ‘চল্লিশা’র আয়োজন সম্পন্ন করলেন আব্দুস সামাদ (৭০) নামে এক বিত্তশালী কৃষক।

গত বুধবার (৫ আগস্ট) জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন তিনি। এ উপলক্ষে গ্রামের দুই সহস্রাধিক মানুষকে দাওয়াত করে ঐতিহ্যবাহী খাবার খাইয়েছেন তিনি। জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার এমন ঘটনায় ওই এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধ আব্দুস সামাদ পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত শুকর আলীর ছেলে। ব্যক্তিজীবনে তার তিন মেয়ে ও চার ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে, আর ছেলেরা আলাদা সংসার ও লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত। জীবনের শেষ সময়ের অপেক্ষায় থাকা এই বৃদ্ধ নিজের জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে দেওয়ার চিন্তা করছেন। তবে তার মনে একটি শঙ্কা কাজ করছিল মৃত্যুর পর সন্তানরা হয়তো তার চল্লিশার আয়োজন নাও করতে পারে। সেই চিন্তা থেকেই পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে সবার সম্মতিতে জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার এই উদ্যোগ নেন তিনি।

 

চল্লিশা উপলক্ষে কয়েক দিন ধরেই আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীকে দাওয়াত দেন আব্দুস সামাদ। আয়োজনে কোনো কমতি রাখা হয়নি। ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি গরু এবং ২০ হাজার টাকায় একটি খাসি কেনা হয়। বুধবার দুপুরে সেই গরু ও খাসির মাংস দিয়ে জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি’ রান্না করা হয়।

 

বাড়িতে সামিয়ানা টানিয়ে দুই সহস্রাধিক মানুষকে এই খাবার পরিবেশন করা হয়। এদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ এই আয়োজনে অংশ নেন। ভিড়ের কারণে সামিয়ানার নিচে জায়গা না পেয়ে অনেককে ছাতা মাথায় দিয়ে খোলা আকাশের নিচে মাটিতে বসেই তৃপ্তি সহকারে মিল্লি-ভাতের স্বাদ নিতে দেখা যায়।

 

দাওয়াতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কদ্দুস বলেন, ‘জীবিত অবস্থায় কেউ নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন, এটি সত্যিই একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। আমরা তৃপ্তি সহকারে খাবার খেয়েছি এবং উনার জন্য দোয়া করেছি।’

 

বাবার এমন উদ্যোগ প্রসঙ্গে ছেলে সামিউল বলেন, ‘বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা এই আয়োজন করেছি এবং এতে আমাদেরও সম্মতি ছিল। বাবা না থাকলেও তার আত্মার শান্তির জন্য আমরা অবশ্যই এমন আয়োজন করতাম।’

 

মেয়ে সাজেদা জানান, বাবার মনের সন্দেহ দূর করতেই মূলত এই চল্লিশার আয়োজন করা হয়েছে। ভাইদের সাধ্যমতো এই আয়োজনে তাদেরও ভালো লাগছে।

 

নিজের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন সম্পর্কে বৃদ্ধ আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছি। নামাজ ছাড়া এখন তেমন কোনো কাজকর্ম করি না। সবার সঙ্গে পরামর্শ করেই এই আয়োজন করেছি।’

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন